"চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ দীর্ঘ সময় চলতে পারে না," এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গ হাইকোর্ট সম্প্রতি রাজ্য সরকারকে সতর্ক করেছে। আদালতের মতে, চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগের প্রথা একটি অস্থায়ী সমাধান হতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে কর্মচারীদের অধিকারের পরিপন্থী। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সাম্য এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ: প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
চুক্তির
ভিত্তিতে নিয়োগ হল এমন এক
ব্যবস্থা যেখানে কর্মচারীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ করা
হয়। এই ব্যবস্থায় কাজের
নিশ্চয়তা ও সুবিধা কম
থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের
জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা
সাধারণত পূর্ণকালীন কর্মচারীদের মতো সমকাজে সমবেতন
পান না, যা তাদের
মধ্যে অসন্তোষ এবং অবিচারের অনুভূতি
জাগিয়ে তোলে।
হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের পটভূমি
সম্প্রতি
পশ্চিমবঙ্গ হাইকোর্টে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়ে একটি মামলা দায়ের
করা হয়। মামলার মূল
বক্তব্য ছিল যে, চুক্তিভিত্তিক
কর্মীরা স্থায়ী কর্মীদের মতো কাজ করলেও
তাদের সমকাজে সমবেতন দেওয়া হচ্ছে না, যা সুপ্রিম
কোর্টের রায়ের পরিপন্থী।
২০১৬
সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে,
"সমকাজে সমবেতন" কর্মসংস্থানের একটি মৌলিক নীতি,
এবং যে কোনো ধরনের
বৈষম্য সংবিধানের ১৪ ও ২১
ধারা লঙ্ঘন করে। এই রায়ের
পর থেকেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অধিকার এবং তাদের প্রাপ্য
বেতনের বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে। হাইকোর্টও
সেই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের পর্যবেক্ষণ
দিয়েছে এবং রাজ্য সরকারকে
উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্মসংস্থানের স্বচ্ছতা: একটি আবশ্যিকতা
আদালতের
মতে, সমস্ত শূন্যপদ পূরণে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া
অনুসরণ করা উচিত। বিভিন্ন
সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভাগে নিয়োগের
ক্ষেত্রে প্রায়ই স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়।
এ কারণে মেধাবী প্রার্থীরা উপযুক্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন
এবং সমাজে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
সরকারি
চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা মানে হলো, নিয়োগ
প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের পক্ষপাতিত্ব
বা দুর্নীতি ছাড়া সকল প্রার্থীকে সমান
সুযোগ প্রদান করা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায়
স্বচ্ছতা না থাকলে তা
সমাজে অবিচার এবং অসাম্যের জন্ম
দেয়।
আরো পড়ুন......
পশ্চিমবঙ্গে VBDC ভেক্টরবন ডিজিজ প্রোগ্রামের কর্মচারীদের পার্মানেন্ট কবে হবে ? কর্মচারীরা যদি কোর্টে কেস করে তাহলে কি হতে পারে?
2024 সালে ঘরে বসে কিভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করবেন ? how to make money online 2024 ?
নিয়মিত খবর পেতে জয়েন করুন আমাদেগ্রুপের টেলিগ্রাম
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম
কোর্ট ইতিপূর্বে তার একাধিক রায়ে
"সমকাজে সমবেতন" নীতির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।
১৯৮২ সালের 'ধীরা সিং বনাম
পাঞ্জাব সরকার' মামলায় সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, "যদি দুটি ব্যক্তি
একই ধরনের কাজ করে তবে
তাদের বেতনও সমান হতে হবে।"
এরপর আরও কিছু মামলায়
সুপ্রিম কোর্ট এই নীতির ওপর
আলোকপাত করে এবং সরকারকে
প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ
করার নির্দেশ দেয়।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রভাব
চুক্তিভিত্তিক
নিয়োগের ফলে কর্মচারীদের মধ্যে
অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কাজের
নিশ্চয়তা না থাকার কারণে
কর্মচারীরা তাদের কাজের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন না।
এর ফলে সরকারি পরিষেবার
মানও প্রভাবিত হয়। পাশাপাশি, স্থায়ী
কর্মচারীদের তুলনায় চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য
সুবিধা কম হওয়ার কারণে
তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে। এটি একটি উদ্বেগজনক
পরিস্থিতি যা দ্রুত সমাধানের
প্রয়োজন।
হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং পরামর্শ
হাইকোর্ট
তার রায়ে রাজ্য সরকারকে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগের পরিবর্তে শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ
দিয়েছে। এটি একদিকে কর্মচারীদের
জন্য কাজের নিশ্চয়তা দেবে, অন্যদিকে সরকারের কর্মক্ষমতা এবং দায়িত্বশীলতা বাড়াবে।
আদালত আরও বলেছে যে,
সমস্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মেধার মূল্যায়ন
করা উচিত, যাতে কর্মচারীরা তাদের
পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন পায়।
পশ্চিমবঙ্গ
হাইকোর্টের এই রায় এবং
নির্দেশনা চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগের প্রথার সমালোচনা করে এবং একটি
স্বচ্ছ ও সমানাধিকারমূলক নিয়োগ
প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। কর্মসংস্থানের
ক্ষেত্রে "সমকাজে সমবেতন" নীতি নিশ্চিত করা
যেমন প্রয়োজন, তেমনই শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায়
রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাজ্য সরকারের উচিত হাইকোর্টের নির্দেশ
অনুসরণ করে একটি স্বচ্ছ
এবং সমতা-ভিত্তিক নিয়োগ
প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, যাতে সকল
প্রার্থী তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক সুযোগ পান
এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অমানবিক প্রথা বন্ধ করা যায়।
আরো পড়ুন......
পশ্চিমবঙ্গে VBDC ভেক্টরবন ডিজিজ প্রোগ্রামের কর্মচারীদের পার্মানেন্ট কবে হবে ? কর্মচারীরা যদি কোর্টে কেস করে তাহলে কি হতে পারে?
2024 সালে ঘরে বসে কিভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করবেন ? how to make money online 2024 ?
