প্রত্যেক ভিআরপি নিজের নিজের মতো করে চেষ্টা করছেন, ভাবছেন, মতামত দিচ্ছেন যাতে অন্তত নিজেদের অস্তিত্ব টা টিকিয়ে রাখা যায়। গত কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে কয়েকটি জেলা মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের বিভিন্ন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা এবং স্মারকলিপি দিচ্ছেন যাতে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায় বা তার দৃষ্টি আকর্ষন করা যায়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই পদক্ষেপ ছাড়া আর অন্য কোনও উপায় এই মূহুর্তে কার্যকরী হবে বলে মনে হয় না। জানি আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আছে, অনেকে তেল দিয়ে চলা পছন্দ করেন না, অনেকে চরমপন্থী আন্দোলন চাইছেন প্রথম থেকেই। একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলে, বা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিচার করলে বোঝা যাবে এই মূহুর্তে সরকার বিরোধী চরমপন্থী আন্দোলন করলে হিতে বিপরীত হতে পারে । প্রথমত এই পরিস্থিতিতে কোলকাতার বুকে হয়তো বৃহৎ আন্দোলন সংঘটিত করাও অসম্ভব। যদি পরবর্তীতে করাও যায়, ব্যাপক সিট নিয়ে সদ্য ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার এইসব আন্দোলনের তোয়াক্কা করবে কি না সে বিষয়ে একটা বড়ো প্রশ্ন চিহ্ন থেকে যায়। খুব বেশী হলে পুলিশের লাঠি চার্জে সৌভাগ্য বশত কেউ যদি মরে যায় তার পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ক্ষতিপূরণ পেয়ে যেতে পারে, এর থেকে বেশি কিছু হবে না।
এবার আসি আজকের ঘটনায়। প্রথমেই গোসাবার লড়াকু ভিআরপি দের স্যালুট জানাই। এতদিন তেল দেওয়ার খবর কোনো নিউজ চ্যানেলে এলো না, ফোঁস করতেই খবর হয়ে গেলো। আমি কিছুটা কনফিউজড। খবরে দেখাচ্ছে কিছু ভিআরপি দের হাতে স্মারকলিপি, কিন্তু বলছে বিক্ষোভের কথা। বুঝতে পারছি না আসলে কি ঘটেছে। যদি ধরে নিই সত্যিই বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে, তাহলে পরিস্থিতিটা খুব কঠিন হয়ে গেলো বোধ হয় । এমনিতেই মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী ভিআরপিরা বামপন্থী। আর আমরা যখনই এরকম বিক্ষোভ প্রদর্শন করছি বেশির ভাগটাই নির্বাচনী প্রচারে, যেটা কোনও সরকারি অনুষ্ঠান নয়, সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রাম। এটা শাসক দলের দিক থেকে আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ( সিপিএম বিজেপি এরকম লোক পাঠিয়ে দিচ্ছে) ক্রমশ দৃঢ় করছে। একদিকে কিছু ভিআরপি শুভেচ্ছা বার্তা, স্মারক লিপি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে কিছু ভিআরপি রাজনৈতিক সভায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিপরীত অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এতে ভিআরপি সংগঠন সম্পর্কে একটা নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। ছন্নছাড়া সিদ্ধান্ত কখনোই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পক্ষে সমীচীন নয়। সকলের মধ্যে যন্ত্রণা আছে, ক্ষোভ আছে কম বেশী। কিন্তু বন্ধুরা এটা মাথা ঠান্ডা রেখে যুদ্ধ জেতার সময়। আবেগ দিয়ে নয়, কুটনৈতিক ভাবে লড়াইটা জিততে হবে। প্রতিপক্ষ প্রবল শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য প্রতিপক্ষের পরাজয় নয়, নিজেদের জয়। তাই সমস্ত মতপার্থক্য ভুলে সংগঠিত হয়ে লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে। রাজ্য কমিটিকে অনুরোধ আর দেরী না করে সঠিক দিশা নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি একটা রূপরেখা তৈরি করুন, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সঠিক কর্মসূচী ও তার সময়সূচী ঘোষণা করুন।
বিঃদ্রঃ নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ দয়া করে কোনও সূত্র আর গোপন রাখবেন না, আর সকল ভিআরপি নিজ নিজ পদক্ষেপে সতর্ক হবেন।