আজকে আমরা ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপারে জেনে নেবো সবকিছু
ডেঙ্গু জ্বর কি?
ডেঙ্গু জ্বর হলো ডেঙ্গু নামক ভাইরাস এর সৃষ্ট এক ধরনের জ্বর যেতে মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে ডেঙ্গু সাধারণ ভাষায় 'হাড়ভাঙ্গা জ্বর' নামে পরিচিত।
![]() |
| এডিস মশা |
আমাদের পরিবেশে তিন ধরনের মশা থাকে অ্যানোফিলিস, এডিসএবং কিউলেক্স।প্রত্যেকটি মশার আমার স্ত্রী ও পুরুষ ভাগ রয়েছে। মূলত স্ত্রী এডিস মশা কি রোগ ছড়িয়ে থাকে।
সংক্রমিত এডিস মশার কামড় দ্বারা এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষণ গুলি নিয়ে ওয়াকিবহাল না হলে কিছু ক্ষেত্রে এই রোগটি জীবন বিপন্ন করা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডি এইচ এফ)অর্থাৎ রক্তক্ষরিত ডেঙ্গু জরে পরিণত হয় এবং এর ফলে
০রক্তপাত ঘটে
০ রক্তে অনুচক্রিকার স্বল্পতা ঘটে ও রক্তরস ক্ষরিত হয়।
ডেঙ্গু কি ধরনের রোগ ?
ডেঙ্গু ভাইরাস ঘটিত রোগ।
ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক।
সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস আমাদের দেহে বহন করে নিয়ে আসে স্ত্রী এডিস মশার বিজ্ঞানসম্মত নাম-Aedes aegypti.
এই মশাকে সহজে চেনা যায় এই এডিস মশার দেহে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে যে কারণে এদিকে টাইগার বলা হয়।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ বা উপসর্গ
০ প্রচন্ড জ্বর এবং মাথা ব্যাথা।
০ অক্ষিগোলক বা চোখের পেছনে ব্যথা।
০ পেশী এবং গাঁটে প্রচন্ড ব্যথা।
০ বমি বমি ভাব।
০ শরীরে ব্যাথা, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া।
০ কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে দানা দেখা দেওয়া।
০ অবসন্নতা বা ক্লান্তি।
০ ফুসফুস,লিভার এবং হার্টে সমস্যা।
০ গলা ব্যথা বা স্বরভঙ্গ।
০ তলপেটে ও সারা শরীরে যন্ত্রনা।
০ শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া (কাঁপুনি).
ডেঙ্গু কিভাবে ছড়ায় ??
০প্রথমে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্ত্রী এডিস মশা কামড়ায় এবং তার দেহে থাকা ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে চলে আসে।
০ এবার মশাটি সুস্থ একটি ব্যক্তিকে কামড়ায়।
০ সুস্থ ব্যক্তি কামড়ানোর কিছু সময় সেরকম কিছু বুঝতে না পারলেও কিছুদিন পর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা যায়।কামড়ানোর পর থেকে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সময়টাকে বলা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড।
০এইভাবে মশার মাধ্যমে চক্রাকারে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে ডেঙ্গু রোগটি ছড়ায়।
০কোন ব্যক্তি একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলে তার আবারও ডেঙ্গুতে আক্রমণ চান্স থাকে।
তবে ব্যক্তিটি চারটি ভাইরাসের মধ্যে যেকোনও একটি ভাইরাসের দিয়ে আক্রান্ত হলে সেই ভাইরাস দিয়ে আবার আক্রান্ত হবে না।
এডিস মশা কখন কামড়ায়।
ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারনত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে ওঠে।এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না।
যেসব ওষুধ খাওয়া উচিত নয়
ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে।
প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম।কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার,হাট ও কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে,তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যাথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না ।ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ডেঙ্গু হলে কী খাবেন ?
শিশু, বয়স্ক—সবারই হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু হলে খাবার-দাবার ও পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর হলে তারা খাওয়া একেবারেই ছেড়ে দেয়। এ থেকে হতে পারে পানিশূন্যতাসহ নানা জটিলতা। বাড়িতে কারও ডেঙ্গু জ্বর হলে তাই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন।
■ সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে চিকিৎসকেরা সারা দিনে অন্তত আড়াই লিটার থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন। জ্বর হলে পানি পান করতে অনেকেরই ইচ্ছে হয় না। তাই পানির চাহিদা পূরণ করতে পানির সঙ্গে ফলের রস (কেনা জুস নয়, বাড়িতে করা রস), ডাবের পানি যোগ করুন। ফলের রসে ভিটামিন সি আছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মাল্টা, কমলা, লেবু, পেয়ারা, কিউই, স্ট্রবেরি, পেঁপে, আনার বা ডালিম ইত্যাদি খেতে হবে। এসব ফলে জলীয় অংশ অনেক। তা ছাড়া রুচি বাড়াতেও সাহায্য করবে। ডাবের পানিতে খনিজ বা ইলেট্রোলাইটস আছে, যা ডেঙ্গু জ্বরে খুবই দরকারি।
■ বিভিন্ন ধরনের সবজি থেঁতো করে জুস করে খেলে খুবই উপকার হবে। গাজর, টমেটো, শসা ইত্যাদি সবজি বেশি করে খেতে দিন। কেননা এতে জলীয় অংশ বেশি। ব্রকোলি ভিটামিন কে এর উৎস, যা ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি কমায়। খেতে হবে নানা ধরনের শাকও।
■ ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন নানা ধরনের স্যুপ, যেমন সবজির স্যুপ, টমেটোর স্যুপ, চিকেন স্যুপ বা কর্ন স্যুপ দিন। এতে পানির চাহিদা পূরণ হবে, পাশাপাশি পুষ্টিও নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া নরম সেদ্ধ করা খাবার, জাউ, পরিজ ইত্যাদি খেতে পারেন।
■ ইদানীং ডেঙ্গুতে অনেকেরই পেটে হজমের সমস্যা, বমি, পেট ব্যথা হচ্ছে। যকৃতেও অস্বাভাবিকতা হয় ডেঙ্গুতে, এসজিপিটি বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত মসলা ও চর্বি তেলযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো। তবে খাদ্যতালিকায় আমিষ থাকতে হবে যথেষ্ট। দুধ, ডিম ও এগুলোর তৈরি নানা খাবার, মাছ ও মুরগি খেতে হবে।
ডেঙ্গু নির্ণয় টেস্ট-
NS-1
