ই-শ্রম কার্ড ও লেবার কার্ডের সুবিধাগুলি কি কি । দুটি কার্ডের পার্থক্য কি?
বন্ধুরা, বর্তমানের সবথেকে প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটি কার্ড হল লেবার কার্ড ও ই-শ্রম কার্ড। কিন্তু সমস্যা হল যে আপনি কোন কার্ডটি বানাবেন, লেবার কার্ড না ই-শ্রম কার্ড। এছাড়া কোনটি বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক, আপনার মনে যদি এই ধরনের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে এই video টি সম্পূর্ণ আর জানুন দুটি কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কি কি এবং কোনটি বেশি সুবিধাজনক আপনার পক্ষে।
এই দুটি কার্ডের সুবিধা কোনটিতে বেশি ও পার্থক্য কি সেটা জানার আগে আমরা জেনে নেই এই কার্ডগুলোতে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে। তখন আপনি নিজেই বুঝতে পারবে কোন কার্ডটি আপনার পক্ষে সুবিধাজনক। পুরুষ ও মহিলা উভয়েই কার্ড পাবার জন্য আবেদন করতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্মাণ কর্মীদের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করেছে- ‘নির্মাণ শ্রমিক প্রকল্প’ যাকে আমরা ‘লেবার কার্ড’ হিসাবে জানি। এখন কথা হল নির্মাণ কর্মী কারা, যারা ভবন, সড়কপথ, রেল, ট্রাম লাইন, বিমানবন্দর, সেচ নিকাশি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বিজলী ও জল সরবরাহ, টেলিভিশন ও টেলিফোনের টাওয়ার নির্মাণ, জলাশয়, জলাধার ও সুরঙ্গ বানানো, পাইপলাইনের কাজ, তেল ও গ্যাস সংস্থাপন ইত্যাদি নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভাঙ্গার কাজ যারা করছে তাদেরকে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে গণ্য ও তারা এই প্রকল্পের সুবিধাগুলি পাবে।
লেবার কার্ডে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে:
1) কর্মীর দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসা ভাতা এক হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।
2) দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ২৫০০০ টাকা।
3) অস্ত্রোপচারের জন্য ৩০০০০ হাজার টাকা।
4) কঠিন রোগের চিকিৎসায় আবেদনকারী অথবা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা করে পাবেন।
5) যক্ষায় আক্রান্ত হলে ৩০০০ টাকা।
6) কোন নির্মাণ কর্মী মারা গেলে তার পরিবারকে ৩০০০০ টাকা ও কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে এক লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে।
7) ৬০ বছর বয়সের পরে প্রতিমাসে ৫০০ থেকে ৮৭০ টাকা করে পেনশন পাওয়া যাবে। এবং কর্মীর মৃত্যু হয়ে গেলে তার স্ত্রী অর্ধেক পেনশন পাবে।
8) বাড়ি তৈরীর জন্য ৫০০০০ টাকা ৫% সুদে লোনের বন্দোবস্ত।
9) নির্মাণ কর্মীর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য ২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান।
10) মহিলা নির্মাণ কর্মীদের জন্য তার গর্ভাবস্থার সময় তিন হাজার টাকা অনুদান এছাড়া দুর্ঘটনাজনিত গর্ভপাতের জন্য দুই হাজার টাকা অনুদান।
11) চশমা কেনার জন্য ৫০০ টাকা এককালীন অনুদান।
12) কর্মীর মৃত্যুর ক্রিয়া কাজ করার জন্য এককালীন ৩০০০ টাকা অনুদান।
13) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১০০০ টাকা এককালীন অনুদান।
14) কর্মীর মেয়ের বিবাহের বাবদ পাঁচ হাজার টাকা করে বছরে দুবার মোট দশ হাজার টাকা অনুদান ।
ই-শ্রম কার্ডে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে:
এই কার্ডটি মাধ্যমে পিএমএসবিওয়াই (Pradhan Mantri Surasksha Bima Yojona) এর আওতায় দু লক্ষ টাকার বীমা সুবিধা পাওয়া যায়।
কোন শ্রমিক সামরিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হলে বা অঙ্গহানি হলে সেক্ষেত্রে শ্রমিককে এক লক্ষ টাকার নগদ রাশি।
ভবিষ্যতে সরকার দ্বারা কোন প্রকার কর্মসংস্থান হলে ই-শ্রম পোর্টালে রেজিস্টার ই-শ্রম কার্ড যেসব শ্রমিকদের থাকবে সে সমস্ত শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
কাজের শ্রেণীবিভাগের ভিত্তিতে ভারতের যেকোন জায়গায় কাজ পাওয়ার সুবিধা।
খরা, বন্যা, মহামারীর মত জরুরী পরিস্থিতিতে সরকার ই-শ্রম কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে পারবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা গুলো ই-শ্রম কার্ড মারফত শ্রমিকদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।
ই শ্রম কার্ড র টাকা আসছে না কেন
প্রথম কারণ হতে পারে শ্রমিকের কার্ড আপডেট করা হয়নি। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে যে শ্রমিকের ই-লেবার কার্ড তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে লিঙ্ক করা নেই। অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তাদের আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক না করলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব কারণে শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আসে না।
ই শ্রম কার্ড থাকলে পাবেন 1000-5000 টাকা এবং এরই সাথে পাবেন 15 টি সুবিধা , এই সুবিধাগুলি পেতে হলে কি কি কাগজপত্র লাগবে ? কারা কারা এই সুবিধাগুলি পাবেন এবং কারা কারা পাবেন না ?
দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য ই - শ্রম কার্ড চালু করেছেন কেন্দ্র সরকার । ইতিমধ্যে কোটি কোটি লোক এই প্রকল্পে তাদের নাম লিখিয়েছেন । প্রত্যেক আবেদনকারী তাদের ই - শ্রম কার্ড হাতে পেয়েও গেছেন । দেশের দিন দরিদ্র ও খেটে খাওয়া সমস্ত রকমের শ্রমিকরা এই প্রকল্পের যোগ্য । এই প্রকল্পের যুক্ত সুবিধাভোগীদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা হয় । যার মধ্যে সর্বাধিক 1 লক্ষ টাকা থেকে 2 লক্ষ টাকা সুবিধা দেওয়া হয় । জানা গিয়েছে এবার ই - শ্রম কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে 1000 টাকা করে দেওয়া শুরু হয় । অর্থাৎ এই প্রকল্পে যুক্ত সমস্ত সুবিধাভোগীরাই সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 1000 টাকা করে পাবে । তবে টাকা পেতে অবশ্যই কিছু শর্ত রাখা হয়েছে যারা সেই শর্ত মেনে চলবেন তারাই এই ই - শ্রম কার্ডের মাধ্যমে 1000 টাকা করে পাবে ।
জনধন অ্যাকাউন্টে করোনা পরিস্থিতিতে মহিলাদের তিন মাস 500 টাকা করে মোট 1500 টাকা দেওয়া হয়েছিলো । তখন সবাই বুঝতে পেরেছে জনধন অ্যাকাউন্টের গুরুত্ব কতটা । ঠিক তেমনি , কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ই শ্রম কার্ডের মাধ্যমে সমস্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য পাঠানো হবে ।
যাদের ই শ্রম কার্ড বা শ্রমিক কার্ড রয়েছে , তাদের ফ্রিতে চাকরিমুখী ট্রেনিং , আবাস যোজনার ঘর , অষ্টম শ্রেণী পাশে চাকরি , আর্থিক সাহায্য , স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা দেওয়া হবে । 100 দিনের কাজ , বার্ধক্য / বিধবা ও অক্ষম ভাতা এবং আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য 5 লক্ষ টাকার সুবিধা দেওয়া হবে । • ই শ্রম কার্ড থাকলে APY যোজনার মাধ্যমে 1000 থেকে 5000 টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে ।
• ই শ্রম কার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনার মাধ্যমে এককালীন 2 লক্ষ টাকা দেওয়া হবে ।
আপনাকে সরকারি চাকরির সুযোগ - সুবিধা দেওয়া হবে এবং আপনাকে কেন্দ্র সরকারের সমস্ত প্রকল্পের সুযোগ - সুবিধা দেওয়া হবে ই শ্রম কার্ড এর মাধ্যমে । • স্থানীয় এলাকায় সরকার দ্বারা কোনো কর্মসংস্থান হলে যাদের ই শ্রম কার্ড থাকবে , তাদেরকেই প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হবে । ক্ষরা , বন্যা , মহামারীর মতো পরিস্থিতিতে সরকার দ্বারা ই শ্রম কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে ।
এছাড়াও রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের লাভ ই শ্রম কার্ড মারফতে শ্রমিকদের সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে । আপনি যদি কখনো দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাহলে আপনি বীমা সুবিধা পাবেন এই ই শ্রম কার্ডের জন্য । আপনার মৃত্যু হলে বা আপনি পুরোপুরি অক্ষম হলে 2 লক্ষ টাকা দেওয়া হবে । যদি আপনি আংশিক ভাবে অক্ষম হন তাহলে ই শ্রম কার্ডের জন্য আপনাকে 1 লক্ষ টাকা দেওয়া হবে ।
ই শ্রম কার্ডের অসুবিধা আপনারা সবাই শুনেছেন যে , ই শ্রম কার্ড করলে 12 টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হবে , অর্থাৎ প্রতিমাসে 1 টাকা করে কাটা হবে ।
কারা কারা 1000 টাকা পাবেন ?
দিনমজুর , রিকশাচালক , নির্মাণ শ্রমিক , বিড়ি শ্রমিক , ফুটপাতের ব্যবসায়ী , আশা কর্মী , মিড ডে মিলের শ্রমিক , ইটভাটার শ্রমিক , মুচি , গৃহকর্মী , কৃষি শ্রমিক , চামড়া শ্রমিক , সবজি বিক্রেতা অর্থাৎ সমস্ত দিনমজুর শ্রমিক এই 1000 টাকা সুবিধাটি পাবেন ।
এই পোর্টালে না নথিভুক্ত করার শর্ত গুলি কি কি ?
1. যাদের মাসিক 15,000 টাকার কম তারা আবেদন করতে পারবেন । 2. বয়স 18 থেকে 40 এর মধ্যে হতে হবে । 3. আপনি যদি ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে থাকেন তাহলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না । 4. EPF / ESIC সদস্য হলে আবেদন করতে পারবেন না ।
কী কী কাগজ পত্র লাগবে ?
1. আধার কার্ডের জেরক্স । 2. মোবাইল নাম্বার । 3. আধার লিঙ্ক ব্যাংক একাউন্ট । 4. পাসপোর্ট সাইজের ছবি । এই 1000 টাকাটি সেই সমস্ত আবেদনকারীদের দেওয়া হবে যারা প্রধানমন্ত্রী সহযোগী যোজনা ও অটল পেনশন যোজনাতে আবেদন করেছেন । আর এই যোজনায় আবেদন করলে তবেই প্রতি মাসে এই টাকা করে পাবেন ।
যারা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করবেন তারা PM SYM এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন । এছাড়া অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে গেলে সিএসসি সেন্টারে গিয়ে আবেদন করতে হবে ।
