VRP তে জনসেবায় আমরা জীবনের 10 টি বছর হারিয়েছি।যৌবন হারিয়েছি। ফিরিয়ে দিন আমাদের জীবনের দশটি বছর।
সেই 2013 সালে Social Audit Volunteer হিসেবে যোগ দিলাম আমরা সতেজ কিছু যুবক যুবতী।2016 সাল পর্যন্ত বছরে হঠাৎ হঠাৎ করে ব্লকের কিছু সার্ভের কাজে অথবা সোশ্যাল অডিটের কাজে ডাকছিল BDO সাহেব।2016 সালের দিকের SAV থেকে হলাম আমরা VRP ।VRP হলে অন্য কোন চাকরি করা যাবে না। রাজনীতি করা যাবে না।বিরাট এক আইন।রাজ্য জুড়ে নিয়োগ হলো প্রচুর ছেলে মেয়ে বিরাট আশা নিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে। বাঁকুড়া, জলপাইগুড়ি শুরু করলো সংগঠন।সেই দেখে সব জেলা গঠন করলো সংগঠন। শুরু হলো ছোট ছোট আন্দোলন।কারণ বাংলার অগ্নি কন্যার শাসন চলছে তখন পশ্চিমবঙ্গে। তিনি আন্দোলন পছন্দ করেন না।বৃহৎ আন্দোলন করা মানা।তাই VRP সংগঠনে সৃষ্টি হলো দুটি মতবাদ। চরমপন্থী ও চরমপন্থী। ধনঞ্জয় চক্রবর্ত্তী ও মোশাররফ হোসেন চরমপন্থী জন্য VRP সংগঠন থেকে তাদের সাইড করা হলো। কিন্তু চরমপন্থী ও চরমপন্থী দুই দলই VRP র উন্নতির জন্য যে যেমন পারে কঠিন লড়াই করে গেল।2018 সালে VRP দের মাসে 10 দিনের কাজ দিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। VRP আবার লড়লো দপ্তরে দপ্তরে।2019 সালে মাসে 20 দিনের কাজ হলো।VRP আরও লড়লো।2021 সালে মাসে 30 দিন কাজ হলো । দৈনিক হলো 175 টাকা।তারপর সংগঠন হীনমন্যতায় 4 টুকরো হলো।অভাবে সবার স্বভাব নষ্ট হলো। সাংগঠনিক অর্থের অপচয় হলো। কিন্তু আসল লক্ষ্যে এখনও VRP পৌঁছতে পারলো না।2024 সালে VRP রা আদালতে গেল। দৈনিক 25 টাকা বৃদ্ধির অর্ডার হলো। কিন্তু সরকারি ভীষণ উদাসীনতা VRP দের উপর।2018 সাল থেকে VRP দের দ্বারা পঞ্চায়েত স্তরের সকল কাজ ফিল্ড থেকে তুলতে শুরু করলো সরকার।সুনাম হলো আশা,অঙ্গনওয়াড়ী,BSK দের।বেতন বৃদ্ধি হলো সকল শ্রেণীর। এদিকে সময়ের সাথে কাজের বহর বৃদ্ধি হতেই আছে VRP দের।ক,খ,গ,ঘ,সার্ভে, সোশ্যাল অডিট,BLO,SBM, VBDCP app কত কি?
ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার ফলে VRP রা অর্ধেক সফল। কিন্তু সময় ও শ্রমের নিরীখে VRP বিফল। বর্তমানে VRP দের নেই ইউনিটি।নেই যৌবনকালের তেজ।VRP র টাকায় কোন সংসার চলে না।তাই প্রত্যেক VRP বেছে নিয়েছে ভিন্ন উপার্জনের পথ।জীবন বাঁচাতে তাদের করতে হচ্ছে কঠিন লড়াই।এখন লড়াই সরকারের বিরুদ্ধে নয়।জীবন রক্ষার লড়াই করছে তারা। পরিবার রক্ষার লড়াই করছে তারা।এ লড়াই দেখা যায় না।নেই VRPতে আর আগের মতো তেজস্বী নেতা। ইতিমধ্যে কত VRP র জীবন শেষ হয়ে গেছে মৃত্যুর কোলে।এখন কথায় কথায় শুনতে হয় কাজ ছাড়ার হুমকি। অথচ 2014 থেকে 2024 সাল পর্যন্ত সরকারের সহস্র কাজ আমরা VRP রা করে চলেছি বিনামূল্যে। আমাদের যৌবন শেষ করেছি আমরা জনসেবায়। জীবনের 10 টা বছর শেষ করেছি আমরা VRP তে। আমাদের উপায় ছিল না বড়ো কিছু হবার।সেই সুযোগটাকেই সরকার লুফে নিয়েছে। আমাদের অসহায়তাকে কাজে লাগিয়ে সবাই আজ কাজ ছাড়তে হুমকি মারে।যারা কাজ ছাড়তে বলে তারা ফিরিয়ে দিক আমাদের জীবনের হারানো দশটি বছর। ফিরিয়ে দিক আমাদের যৌবন।তাহলে কাজ ছাড়তে পারি। নতুন করে আবার শুরু করতে পারি সবাই।
কিন্তু পরিশেষে VRP দের এই সংক্ষিপ্ত ইতিহাসের মূল কথা একটাই।যদি VRP রা আর একবার সকলেই মেরুদন্ড সোজা করে ঘুরে দাড়াতে পারতো।তবে হয়তো তাদের জীবনে কিছুটা শান্তি আসতো।জানি সেটা হয়তো আর হবে না।বক পাখির মতো সরকারের মুখ চেয়ে থাকতে হবে কবে আসবে এলোটমেন্ট।কবে আসবে সেই 6000 টাকা।কবে কেনা হবে চাল ডাল নুন?কবে কেনা হবে ওষুধ? কিছুদিন আগেও দুই-একমাস পরে মিলতো ভাতা।এখন সেই ভাতাও আসছে মাস কেটে কেটে?এই ইতিহাস সমাজের কাছে হাস্যকর। কিন্তু VRP দের কাছে জীবন যন্ত্রনা।আজ বড়োই আফসোস।VRP -র উন্নতি নিয়ে ভাবার মতো সময় নেই কারও।
