রবিবার রাজ্যজুড়ে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হল। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার (Preliminary) পর মেইনস (Mains) ও তারপর ফিজিক্যাল এলিজিবিলিটি টেস্ট (PET), এই তিন ধাপে পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হবে। ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা গোটা রাজ্যজুড়ে দুপুর ১২ টা থেকে ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে।
রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষ ২০ হাজার। যেখানে শূন্যপদের সংখ্যা ৮৬৩২। হিসাব করলে দেখা যাবে, প্রতিটি পদের জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ১০৭ জনের কাছাকাছি। গোটা রাজ্যের ২২৭৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নেওয়া হল। পুরুষ এবং মহিলা, দুই পদেই কনস্টেবল নিয়োগ হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে অনেক উচ্চশিক্ষিতও আছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার রাজ্য পুলিসের কনস্টেবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় রাজ্যের চার জেলায় ভুয়ো পরীক্ষার্থী সহ ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। এর মধ্যে কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট পুলিস জেলায় ২৫জন চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এছাড়াও দক্ষিণ দিনাজপুরে দু’জন, জলপাইগুড়িতে একজন, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দক্ষিণ থানায় দু’জন, রানিগঞ্জে একজন ও দুর্গাপুরের কোকওভেন থানা এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কনস্টেবল পদে পরীক্ষা দিতে আসা ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রানাঘাট জেলা পুলিস। তাদের মধ্যে কল্যাণী ও চাকদহ থানা এলাকারই ১৪জন রয়েছে। এছাড়াও হরিণঘাটা ও হাঁসখালি থানার পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কেউ অন্যের নামে পরীক্ষা দিচ্ছিল কেউ আবার পরীক্ষা কেন্দ্রে লুকিয়ে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করছিল।
এদিন কৃষ্ণনগর পুলিস জেলায় পাঁচ পরীক্ষার্থীকে এদিন বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাপড়ার কিং এডওয়ার্ড হাইস্কুল থেকে বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা অভিজিৎ কুমার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ওই স্কুলে পরীক্ষার আসন পড়েছিল কৃষ্ণগঞ্জ থানার চৌগাছা গ্রামের বাসিন্দা রনি বিশ্বাসের। ধৃত যুবক রনির অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করছিল। কিন্তু অ্যাডমিট কার্ডের ছবির সঙ্গে ওই যুবকের ছবি না মেলায় তাকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জেরা করে পুলিস জানতে পারে, সে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে রনির হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আসল পরীক্ষার্থী রনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তেহট্ট থানা এলাকায় দু’জন ও পলাশীপাড়া থানা এলাকা থেকে একজন চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তেহট্ট থানার দেবনাথপুর শরৎ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে একজনের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলে বগুলার উজ্জ্বল দাস। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার আগেই পুলিস তাকে ধরে ফেলে। বেতাই পরিমল বাগচি স্মৃতি বিদ্যালয়েও অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসে গ্রেপ্তার হয় আরিয়ান শর্মা নামে লালগোলার এক যুবক।
পলাশীপাড়া থানার সিদ্ধেশ্বরীতলা ইনস্টিটিউশন থেকে ঝাড়খণ্ডের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। হাঁসখালি থানার বগুলা শ্রীকৃষ্ণ কলেজে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল গোপালনগরের প্রসেনজিৎ বিশ্বাস ও বাগদার শুভম মণ্ডল। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার মুখেই তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। জানা গিয়েছে, ওই দুই যুবক টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। এছাড়া ভীমপুর থানার আসাননগরের একটি স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিল পীযূষ কুমার। তার বাড়ি বিহারের ভাগলপুরে।