পুজোর আগে পেমেন্ট না পাওয়ায় একজন VRP বুক ভরা বেদনায় কথা তুলে ধরলেন l এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো আত্মসন্মান হারানোর যন্ত্রনা।

  একজন SAVRP হিসেবে কৌশিকের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো  আত্মসন্মান হারানোর যন্ত্রনা।



   পূজোর মুখে পারিশ্রমিক নেই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য হিসাবে পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে তবে কি নতুন করে কিছু ভাবতে হবে?

তবে কি কোনো ছোটখাটো ব্যবসা, কোনো আড়ৎ এ কাজ, অথবা কোনো একটা দোকানের কর্মচারী,বা কোনো  কারখানায় হয়তো একটা শ্রমিকের কাজ ? হয়তো কোনো কাজ পেয়ে যাবে কৌশিক


 কিন্তু পূজোর আগের চার মাস এর পারিশ্রমিক কে কেন্দ্র করে পরিবারের দেখা সপ্নের কি হবে ? VBDC র সার্ভে, পঞ্চায়েত বিডিও অফিস এর কাজ করে বাড়ি ফিরে  মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে  ছেলে মেয়ে সামান্য  কিছু আবদার করে রেখে ছিল যেটা পুজোতে মেটানোর কথা ছিল তার কি হবে? সময় তো শেষ ? তাদের কি জবাব দেবে?  এসব চিন্তা করতে করতে ই ক্লান্ত হয়ে যায় কৌশিক।


অন্য কিছু করতে হবে। বাঁচার জন্যই, সংসার ছেলে মেয়ে বয়স্ক বাবা মা  এদের বেচেঁ থাকার জন্য সত্যিই কিছু করতে হবে। এটাই ফাইনাল যে অন্তত কিছু না পেলে লেবার খাটা র কাজটাও করতে হবে। কোনো কিছুই ছোট নয়  সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে কৌশিক।


        কিন্তু পঞ্চায়েত, বিডিও অফিসে কাজ করার সুবাদে নিজের পাড়া মহল্লায় পরিচিত মহলে যে আত্মসন্মান টুকু ছিল তার কি হবে? এই প্রশ্নটাই কুরে কুরে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব ভাবতে ভাবতে জীবন যন্ত্রণায় কাতর নিদ্রা হীন চোখ থেকে আত্মসম্মানের ফোঁটা টপ টপ করে মাটিতে পড়ছে। ভেবেই চলেছে 


       ভোরের দিকে প্রতিদিন ই হাঁটাহাঁটি করে কৌশিক। সকাল বেলা  সুগার প্রেসার আর রাতে অনিদ্রা র ট্যাবলেট কে এই এক বছরে সঙ্গী করে ফেলেছে সে, হেঁটে , ব্যায়াম করে ও সুগার প্রেসার  কমছে না।টেসশন করলে যে  বাড়ে সেটা কি আর কেউ জানে না? VRP ইউনিয়ন গঠন হবার পর থেকে কৌশিক ই তো অন্যকে পরামর্শ দিয়েছে একদম টেনশন করবেন না।

নিজের টেনশন কিভাবে কমবে সেটাই বুঝতে পারছে না কৌশিক। ভাবছে ছেলে টাকে ভাল স্কুলে ভর্তি করেছিলাম।তার খরচ যোগাড় কিভাবে হবে, অসুস্থ বাবামায়ের চিকিৎসার কি হবে।  অনেক  বন্ধু এবার পুজোয় ছেলে মেয়ে দের নতুন জামাকাপড় পর্যন্ত দিতে পারে নি। কিনতে পারে নি পূজোর মুদিখানার বাজার ও। শুধু তারা কেন আমার ?

পাড়ার দোকানদার জুলফিকার কে বলেছিলাম ওরে তোকে পূজোর আগে সব ধার শোধ করে  দিয়ে আবার মুদিখানার বাজার করবো। এখন আত্মসম্মান হারানোর ভয়ে অন্য দিকে পাশ কাটিয়ে পালিয়ে যায় কৌশিক।

       কত ই না কঠিন জীবন যন্ত্রণা নীরবে সহ্য করে চলেছে Vrp রা , দিনের পর দিন অঝোরে ঝরে পড়ে যাচ্ছে কতো যুবক যুবতী। তাদের কষ্টের কথা এক মুহূর্তের জন্য কেউ পর্যালোচনা  করবে না। কারো হাতে সময় নেই ভাবার । ভোট আসছে ভোট যাচ্ছে তারা কেবল এক একজন ভোটার হয়েই রয়ে গেল। অনেক লড়াই অনেক আন্দোলন করে  তারা শুধু যেটা পেল তার নাম প্রতিশ্রুতি। হয়ত এটাই বাস্তবতা।  ভাবতে ভাবতে এক নিমেষে সব কেমন যেন অন্ধকার হয়ে যায় । এর পরে ও কিন্তু সে তো হেরে যাবার পাত্র নয়। ভাবতে ভাবতে কৌশিকের মনে পড়ে যায় সেই কথা........


আজকের দিন টা হয়ত কঠিন

কাল হবে আরো অন্ধকার

কিন্তু পরশু দিন নতুন সূর্য উঠবে ই


আবার তারা জেগে উঠবে নতুন করে নতুন ভাবে। রাজ্য কমিটির নতুন পুরানো সবাই আবার সামনে এসেছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আবার তারা এগিয়ে যাবে।   Vrp দের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করবে তারা । বুক বেঁধে আবার প্রস্তুত হচ্ছে   হাজারো কৌশিক, জুলফিকার, রাজু,হরিশাধন, অমিত, মিজানুর, ইলিয়াস, রহমত রা। এবার শুধু আপনার সহযোগীতা করার পালা।


সুজাউদ্দিন আহমেদ

Subhash

I am Subhash Barman a professional youtuber and Blogger besides expert in Facebook marketing video editing and content making perfectly. I have gathered a lots of experience a long training from online. Able to make effective and attractive web content to promote any product or business to thousand of people . My work is very different because every work done by me manually with my full responsibility and Self direction. Thanks

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন