‘ ১০০ দিনের কাজ ’ সহ গ্রামোন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ পেতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার । এক্ষেত্রে পদ্ধতিগতভাবে যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে , তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে নবান্ন । দুর্নীতি নির্মূল করার প্রশ্নে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য একাধিক সুপারিশ করেছিল । গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক । এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বহু বছর শূন্য পড়ে থাকা স্বাধীন অডিটর ( ইন্ডিপেন্ডেন্ট অডিটর ) পদে নিয়োগ । এই অডিটর প্রকল্পগুলির বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নজরদারি চালাবেন । কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে এই শূন্যপদ পূরণ করল রাজ্য । এর ফলে গ্রামোন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা আটকে রাখার আর কোনও নির্দিষ্ট কারণ মোদি সরকারের হাতে রইল না বলে মনে করা হচ্ছে । ১০০ দিনের কাজ ’ প্রকল্পে আগের কিছু বকেয়া যেমন রাজ্যের পাওনা , তেমনি চলতি আর্থিক বছরেও বাংলার জন্য এই খাতে কোনও বরাদ্দ করা হয়নি । দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কেন্দ্রের পরামর্শ মেনে আধিকারিক নিয়োগের পর সেই বরাদ্দ আর আটকে থাকবে না বলে আশাবাদী রাজ্য প্রশাসন ।
![]() |
| ইন্ডিপেন্ডেন্ট অডিটর |
গ্রামোন্নয়ন খাতে বরাদ্দ অর্থ খরচের উপর নজরদারি চালানোর জন্য প্রতি গ্রাম পঞ্চায়েতে একজন ‘ রিসোর্স পার্সন ' আছেন । তাঁদের উপরে রয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরের ‘ সোশাল অডিট ইউনিট ’ ( এসএইউ ) । মূলত এই এসএইউ’র রিপোর্টের ভিত্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে রাজ্য । অভিযুক্তর বিরুদ্ধে এফআইআর বা টাকা উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হয় রাজ্য সরকারকে । এবার তাঁদের উপরেই বসানো হল ‘ ইন্ডিপেন্ডেন্ট অডিটর ’ - কে । গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী , স্বচ্ছতার প্রশ্নে এই পদ বাধ্যতামুলক । এর ফলে কোনও অফিসারের বিরুদ্ধেও শাস্তিমুলক পদক্ষেপ করা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ।
নবান্ন সূত্রে খবর , বৃহস্পতিবার ‘ ইন্ডিপেন্ডেন্ট অডিটর ’ পদে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে । প্রয়োজনীয় যোগ্যতা উল্লেখ করে এই পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল কিছুদিন আগে । তবে কাকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে , তা এখনই প্রকাশ্যে আনছে না রাজ্য । নবান্নের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন , এবার আমরা কেন্দ্রকে এই পদক্ষেপের কথা লিখিতভাবে জানিয়ে দেব । গ্রামোন্নয়নের প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এটাই তাদের অন্যতম শর্ত ছিল । এর ফলে আগামী মাসেই ‘ ১০০ দিনের কাজ ' সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা মিটে যেতে পারে বলে আমরা আশাবাদী । এ বিষয়ে রাজ্যের শাসক দলের এক জনপ্রতিনিধি বলেন , রাজ্য সরকার একে একে কেন্দ্রের সমস্ত সুপারিশ মেনে নিচ্ছে । এর পরেও যদি বাংলার প্রতি বঞ্চনা হয় , তাহলে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয় ।
