পুজোর মুখে বোনাস তো দূরের কথা দু’মাসের পশ্চিম মেদিনীপুর বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভিআরপি'রা ( জেলা সম্পদ কর্মী ) । তাদের অভিযোগ , গত দু'মাস তাদের প্রাপ্য বেতনটুকুও মিলছে না । অথচ পুজোর আর মাত্র ক'দিন বাকি । তাদের সারা বছর কোনও ছুটি না দিয়ে কাজ করানো হয় । পুজোর বোনাস মিলছে না । এই বিষয়ে তাঁরা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন বলে জানা গিয়েছে ।
![]() |
| দু’মাসের বেতন না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভিআরপি'রা |
পুজোর আগে প্রাপ্য বেতন না মিললে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন জেলার চার হাজারের বেশি ভিআরপি ও ভিবিডিসি কর্মীরা । এই বিষয়ে জেলা পরিবদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বলেন , “ বিষয়টি আমার নজরে এসেছে । বকেয়া বেতন নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে । বোনাস নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না । ” পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভিআরপির সংখ্যা ২০১১ ও ভিবিডিসি ভেম্বর বর্ন ডিজিজ কন্ট্রোলার ) কর্মীর ২০৫৭। দৈনিক ১৭৫ টাকা মজুরিতে সারা মাস তাঁদের কাজ করতে হয় । নির্ধারিত কোনও ছুটি নেই । মূলত এলাকায় মশা , মাছি নিরোধক কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সচেতনতার কাজ করে থাকেন তাঁরা । বিশেষ করে ডেঙ্গু নিরোধক তেল স্প্রে , ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো - সহ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কাজ করতে হয় তাঁদের ।
সারা বাংলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চেয়ারম্যান অভিজিত জানা ক্ষোভ প্রকাশ কর বলেন যে সমস্ত সরকারি কাজগুলো মৌখিকভাবে করে নিলেও আমাদের সরকারি কোনো আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না আমাদের কোনও দাবিই মান্যতা পায়নি । গত দু'মাস ধরে আমাদের প্রাপ্য বেতন দেয়নি প্রশাসন । অথচ পুজোর আর ক'দিন বাকি । আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করেছি । প্রাপ্য বেতন ও উৎসবভাতার জন্য আমরা গত ১২ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছি । মাস শেষ হতে চলল আমাদের বেতন ও ভাতা দুই মেলেনি । কর্মবিরতি ঘোষণা ছাড়া উপায় নেই । ” পুজোর মুখে দু'মাসের বেতন না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভিআরপি কর্মীরা । দাসপুরের ভিআরপি কর্মী জেলা সংগঠনের সহ সম্পাদক নরেশ মাইতি বলেন , “ পুজোর মুখে সমস্ত সরকারি কর্মীরা বেতন . উৎসবভাতা পেয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন । আমরাও তো সরকারের কাজ করি । তাহলে আমাদের বেলায় ভাতা তো দূরের কথা গত দু'মাসের বেতনও দিতে চাইছে না কেন ? আমাদের কি পরিবার নেই ? প্রাপ্য বেতনটুকু চাইতে আবেদন করতে হবে কেন ? ”
